ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
📰 হারানো বিজ্ঞপ্তি জমি বিক্রয়। অতঃপর অস্বীকার। প্রবাসীর স্ত্রী সন্তানের উপর অত্যাচার ও হুমকি। করিমগঞ্জের দরগাভিটা থেকে মাদক সহ ১ জন আটক।। সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদক দ্রব্য সহ ২জন আটক। । সাংবাদিক তুহিন হত্যার আসামি কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে গ্রেফতার সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচারের দাবিতে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের মানববন্ধন গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ভৈরবে বিক্ষোভ সমাবেশ সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।। করিমগঞ্জে সেনাবাহিনির অভিযানে মাদকদ্রব্য সহ ৩ জন আটক গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিজয় মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন

ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার এক বছর আজ!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মো:কাউসার মাহমুদ ( ভৈরব প্রতিনিধি):- গেল বছর ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ঢাকাগামী রেলপথে ক্রস পয়েন্টে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৬০৪

ডাউন কন্টেইনার এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় ভৈরব থেকে চট্টগ্রামগামী ৭৫০ আপ এগারো সিন্দুর গোধুলী ট্রেনের পিছনের ২ টি বগি উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ২০ জন

নিহত হয়েছিল। এছাড়াও শতাধিক যাত্রী আহত হয়। তার মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ভৈরব রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ইউসুফ বলেন, তৎকালীন সাবেক রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতিতে নিহত

১০ জনের পরিবার-কে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হয়। বাকী ৯ জন পরিবারের প্রকৃত কাগজপত্রের অভাবে অনুদান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভৈরব রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও স্টেশন সংলগ্ন

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ বুধবার দোয়া ও মিলাদ -মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভৈরব রেলওয়ে থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী

কর্মকর্তা আলী আকবর জানান, ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত যাত্রী নজরুল ইসলাম(৩৯) এর ভাই বিল্লাল বাদী হয়ে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের চালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী চালক আতিকুর রহমান ও

পরিচালক আলমগীর -কে আসামী করে প্যানেল কোডে মামলা দায়ের করেন। বাদী বিল্লাল মিয়া নরসিংদী জেলার বেলাব থানার সররাবাদ গ্রামের দর্শন মিয়ার ছেলে।মামলায় উল্লেখ করা হয়।

গুরুতর আহত যাত্রী নজরুল কে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মারা যায়। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের

গাফিলতি এবং তাচ্ছিল্য থাকায় ভয়াবহ এই দূর্ঘটনা ঘটে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলী আকবর আরো বলেন, পরিচালক আলমগীরের

পুর্ণাঙ্গ সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা আজও পাওয়া যায় নি। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরদিনই কন্টেইনারগামী ট্রেনের চালক আলমগীর -কে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনায় ২টি পৃথক তদন্ত

কমিটি গঠন করেছিল। রেলওয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটিতে ছিলেন রেলওয়ে সিওপিএস শহিদুল ইসলাম, চিফ – মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, চিফ- ইঞ্জিনিয়ার সিএসপি তুষার ও

চিফ মেডিকেল অফিসার আহাদ আলী সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কন্টেইনারবাহী ট্রেনটি স্টেশনে আউটারে থাকার কথা কিন্তু সিগন্যাল অমান্য স্টেশনে প্রবেশের সময় এগারো সিন্দু গোধুলী

ট্রেনের পিছনে বগিতে সজোরে ধাক্কা দেওয়ায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। দূর্টঘনার পর ফায়ার সার্ভিস সহ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৮ টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে, ঢাকা থেকে

বিশেষ ইউনিটসহ আরো

৫ টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। তারা ৬ ঘন্টা চেষ্টা করে ট্রেনের বগি কেটে ১৭ টি লাশ উদ্ধার করে। দূর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় এলাকাবাসীও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিল। এছাড়াও

স্থানীয় প্রশাসন,র্্যাব-সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।স্থানীয়রা জানায় এতো বড় ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনা এর আগে ভৈরবে কখনো ঘটে নি।সেই দিনের সেই দুর্ঘনার ভয়াল স্মৃতি

আজও তাদের মনে কড়া নাড়ে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভৈরবে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার এক বছর আজ!

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

মো:কাউসার মাহমুদ ( ভৈরব প্রতিনিধি):- গেল বছর ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ঢাকাগামী রেলপথে ক্রস পয়েন্টে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৬০৪

ডাউন কন্টেইনার এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনের ধাক্কায় ভৈরব থেকে চট্টগ্রামগামী ৭৫০ আপ এগারো সিন্দুর গোধুলী ট্রেনের পিছনের ২ টি বগি উল্টে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ২০ জন

নিহত হয়েছিল। এছাড়াও শতাধিক যাত্রী আহত হয়। তার মধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ভৈরব রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার ইউসুফ বলেন, তৎকালীন সাবেক রেলমন্ত্রী প্রতিশ্রুতিতে নিহত

১০ জনের পরিবার-কে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হয়। বাকী ৯ জন পরিবারের প্রকৃত কাগজপত্রের অভাবে অনুদান থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভৈরব রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও স্টেশন সংলগ্ন

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আজ বুধবার দোয়া ও মিলাদ -মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ভৈরব রেলওয়ে থানার এস আই ও মামলার তদন্তকারী

কর্মকর্তা আলী আকবর জানান, ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত যাত্রী নজরুল ইসলাম(৩৯) এর ভাই বিল্লাল বাদী হয়ে কন্টেইনারবাহী ট্রেনের চালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী চালক আতিকুর রহমান ও

পরিচালক আলমগীর -কে আসামী করে প্যানেল কোডে মামলা দায়ের করেন। বাদী বিল্লাল মিয়া নরসিংদী জেলার বেলাব থানার সররাবাদ গ্রামের দর্শন মিয়ার ছেলে।মামলায় উল্লেখ করা হয়।

গুরুতর আহত যাত্রী নজরুল কে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মারা যায়। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের

গাফিলতি এবং তাচ্ছিল্য থাকায় ভয়াবহ এই দূর্ঘটনা ঘটে। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলী আকবর আরো বলেন, পরিচালক আলমগীরের

পুর্ণাঙ্গ সঠিক পরিচয় ও ঠিকানা আজও পাওয়া যায় নি। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরদিনই কন্টেইনারগামী ট্রেনের চালক আলমগীর -কে বরখাস্ত করা হয়। ঘটনায় ২টি পৃথক তদন্ত

কমিটি গঠন করেছিল। রেলওয়ে বিভাগীয় তদন্ত কমিটিতে ছিলেন রেলওয়ে সিওপিএস শহিদুল ইসলাম, চিফ – মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, চিফ- ইঞ্জিনিয়ার সিএসপি তুষার ও

চিফ মেডিকেল অফিসার আহাদ আলী সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কন্টেইনারবাহী ট্রেনটি স্টেশনে আউটারে থাকার কথা কিন্তু সিগন্যাল অমান্য স্টেশনে প্রবেশের সময় এগারো সিন্দু গোধুলী

ট্রেনের পিছনে বগিতে সজোরে ধাক্কা দেওয়ায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। দূর্টঘনার পর ফায়ার সার্ভিস সহ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ৮ টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। পরে, ঢাকা থেকে

বিশেষ ইউনিটসহ আরো

৫ টি ইউনিট উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। তারা ৬ ঘন্টা চেষ্টা করে ট্রেনের বগি কেটে ১৭ টি লাশ উদ্ধার করে। দূর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় এলাকাবাসীও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছিল। এছাড়াও

স্থানীয় প্রশাসন,র্্যাব-সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।স্থানীয়রা জানায় এতো বড় ভয়াবহ ট্রেন দূর্ঘটনা এর আগে ভৈরবে কখনো ঘটে নি।সেই দিনের সেই দুর্ঘনার ভয়াল স্মৃতি

আজও তাদের মনে কড়া নাড়ে