নারী সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক নূরজাহান বেগমের অনন্য সংগ্রাম
শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা উপমহাদেশেই নারীদের পেশাগত অগ্রযাত্রার ইতিহাস খুব একটা সহজ ও সুখকর নয়। নানা প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা এমনকি ধর্মীয় ও প্রথাগত গোঁড়ামির বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ করে নারীদের সামনে এগিয়ে যেতে হয়েছে।
পুরুষশাসিত সমাজে পদেপদে প্রমাণ দিয়ে হয়েছে পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতার। সৃজনশীল পেশা হিসেবে সাংবাদিকতায় সেই অভিযাত্রার অনন্য নাম নূরজাহান বেগম। যে নামটি অনেকটা সমার্থক হয়ে উচ্চারিত হয় সাপ্তাহিক পত্রিকা বেগম এর সাথে। অনেকেই বলে থাকেন নূরজাহানের বেগম পত্রিকা। নূরজাহানের বেগম ছিলেন উপমহাদেশের নারী সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক ও সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার নিবেদিতপ্রাণ সম্পাদক।
সাপ্তাহিক বেগম-এর আলোচনায় আসার আগে একটু পেছন ফিরে তাকানো প্রয়োজন। ১৭৮০ সালে কলকাতার ৬৭ নম্বর রাধাবাজার ছাপাখানা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ভারতবর্ষের প্রথম সংবাদপত্র হিকি’জ বেঙ্গল গেজেট। এর ঠিক ৯০ বছর পর ১৮৭০ সালে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয় ‘বঙ্গমহিলা’ নামে একটি পাক্ষিক পত্রিকা। এটির সম্পাদক ছিলেন মোক্ষদায়িনী মুখোপাধ্যায়। এটি ছিল নারী বিষয়ক ও নারীদের নিয়ে পত্রিকা।
এরপর ১৮৭৫ সালে নারীদের নিয়ে আরেকটি মাসিক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। যার নাম ‘অনাথিনী’, সম্পাদক ছিলেন থাকমনি দেবী। এরপর ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই অর্থাৎ দেশ বিভাগের মাত্র ২৪ দিন আগে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক বেগম। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে ছিল নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াতের ছবি। এক কপির দাম ছিল চার আনা।
কলকাতায় বেগমের অফিস ছিল ১২ নম্বর ওয়েলেসলি স্ট্রিটে। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল। আর তার প্রধান সহায় ছিলেন নূরজাহান বেগম। যিনি ছিলেন পত্রিকায় নারী স্বাধীনতা, নারী জাগরণ, অধিকার, কুসংস্কারবিরোধী বিভিন্ন লেখা সম্পাদনা ও বাছাইয়ের দায়িত্বে। এছাড়া পত্রিকাটির নানা দিক দেখাশোনা করতেন নূরজাহান বেগম।